আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)





ইসকন (ISKCON), যা "ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস" নামে পরিচিত, একটি হিন্দু ধর্মীয় আন্দোলন এবং বৈষ্ণব ধর্মের একটি অংশ। এটি ১৯৬৬ সালে নিউইয়র্ক শহরে শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসকনের মূল লক্ষ্য হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তি প্রচার এবং বৈষ্ণব সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ।

ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা

শ্রীল প্রভুপাদ (১৮৯৬–১৯৭৭) একজন ভারতীয় আধ্যাত্মিক নেতা এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারক। তিনি ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে ইসকনের সূচনা করেন। তিনি মূলত বৈষ্ণব গ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম-এর ইংরেজি অনুবাদ এবং ব্যাখ্যা লেখার মাধ্যমে ভক্তি আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলেন।

ইসকনের মূল দর্শন

ইসকনের দর্শন চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা থেকে উদ্ভূত, যিনি ১৫শ শতাব্দীতে ভারতের নবদ্বীপে ভগবৎ প্রেম এবং ভক্তির প্রচার করেছিলেন। ইসকন চারটি প্রধান নীতি মেনে চলে:

  1. হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ: "হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে; হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে।"
  2. বৈদিক শাস্ত্রের অনুসরণ: শ্রীমদ্ভাগবত গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম-এর উপদেশ।
  3. শুদ্ধ জীবনধারা: মদ্যপান, মাংসভক্ষণ, জুয়া এবং অবৈধ যৌনতা পরিহার।
  4. ভগবদ্ভক্তি এবং সেবা: ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জীবনের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন।

ইসকনের কর্মকাণ্ড

  • মন্দির নির্মাণ: ইসকন সারা বিশ্বে ৬৫০ টিরও বেশি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে।
  • ভগবদ্গীতার প্রচার: বিভিন্ন ভাষায় গীতার অনুবাদ ও ব্যাখ্যা।
  • খাদ্য বিতরণ: "মিড ডে মিলস" এবং "ফুড ফর লাইফ" প্রোগ্রামের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: রথযাত্রা এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন।
  • গবেষণা ও শিক্ষা: বৈদিক শিক্ষার প্রচার ও গবেষণার জন্য স্কুল, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

ইসকনের বৈশ্বিক প্রভাব

ইসকনের প্রচেষ্টায় হিন্দু ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইসকনের উপস্থিতি প্রায় ১০০ টিরও বেশি দেশে রয়েছে।

ইসকন একটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন যা মানবজীবনের শুদ্ধিকরণ এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


আরও জানতে https://tinyurl.com/2sjkwc83